শুকনো কাশির সমস্যা? এক মিনিটে সর্দি কাশি উধাও, জেনে নিন এই ট্রিক টি

177
- Advertisement -
ছবি : প্রতীকী

ঘন ঘন ওয়েদার চেঞ্জ বা দুম করে বৃষ্টিতে ভিজলে একটু সর্দি গর্মি আমাদের হয়েই থাকে। এর সাথে হাত ধরে চলে আসে কাশি। কাশি আমাদের নানারকমের হয়ে থাকে। প্রত্যেকটা কাশির চিকিৎসা এবং কারণ হয় আলাদা আলাদা। কিন্তু সঠিক ভাবে জানা না থাকার দরুন আমরা নিজেরাই ভুলভাল চিকিৎসা করে থাকি। এর ফল হয় উল্টো। তাহলে আসুন আজ আমরা একটু জেনে নেওয়ার চেষ্টা করি কোন ধরনের কাশি হলে আমরা কীরকম চিকিৎসা করবো।

- Advertisement -

কফযুক্ত কাশি
চিকিৎসকরা রোগীকে প্রশ্ন করে জানেন, কাশির সঙ্গে কোন ধরনের কফ উঠছে। পাতলা সাদা কফ, নাকি গাঢ় অথবা হলুদ রঙের কফ? এছাড়াও রোগীর অ্যাজমা, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ(সিওপিডি) বা হার্টের সমস্যা আছে কি না, সেটিও দেখতে হয়। রোগীর অসুখের ইতিহাস সম্পর্কে জানা দরকার। রোগীর বয়স কম হলে এবং শ্বাসযন্ত্রের কোনও সমস্যা আগে থেকে না থাকলে তার চিকিৎসা অন্যরকম হবে। আর যার আগে থেকেই শ্বাসযন্ত্রে সমস্যা রয়েছে, তার ক্ষেত্রে চিকিৎসাও হবে আলাদাভাবে। রোগীর কতদিন ধরে কাশি হচ্ছে, সেটা জানাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এখানেই শেষ নয়। জানা দরকার, কাশি কতদিন ধরে হচ্ছে। পাঁচদিনের ধরে হওয়া কাশির সঙ্গে ২০ দিন ধরে হওয়া কাশির তফাত রয়েছে। কারণও হবে আলাদা। আবার কাশির সঙ্গে জ্বর আসছে কি না, আগে জ্বর এসেছে, তারপর কাশি হচ্ছে কি না— ইত্যাদি জানাও গুরুত্বপূর্ণ।
এই প্রসঙ্গেই জানিয়ে রাখি, কাশির সঙ্গে রক্ত পড়লে মোটেই অবহেলা করলে চলবে না। রক্ত পড়লে রোগীকে শরীর সম্পর্কে সতর্ক হতেই হবে। কাশির সঙ্গে রক্ত নানা কারণে পড়ে। অনেকসময় কাশির দমকে গলার কোনও রক্তনালী ছিঁড়ে গিয়েও রক্ত পড়তে পারে। আবার যক্ষ্মার কারণেও কাশির সঙ্গে রক্ত পড়ে। আবার ফুসফুসে ক্যান্সার হলেও রক্তপাত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ব্রঙ্কিএকথেসিস নামে ফুসফুসের অসুখে পুরনো সংক্রমণ থেকেও রক্ত পড়ে কাশির সঙ্গে। আবার অন্য কোনও অসুখ যেমন ভাসকুলাইটিস, ফ্যাংগাল ইনফেকশন থেকেও কাশির সঙ্গে রক্ত পড়ার আশঙ্কা থাকে। এই কারণেই রোগের সম্পর্কে উদাসীন না থেকে চিকিৎসকের কাছে রোগীর যাওয়া প্রয়োজন। কারণ, চিকিৎসকই পরীক্ষা করে বুঝতে পারেন রোগী ঠিক কোন সমস্যায় ভুগছেন।

 শুকনো কাশি
যখনতখন রোগী খুকখুক করে কাশতে থাকেন। কফ থাকে না। গলার কাছে শুকনো ও অস্বস্তিভাব বোধ হয়। এক্ষেত্রে রোগীকে দেখতে হবে, কতদিন ধরে কাশি হচ্ছে। কারণ ঋতু পরিবর্তনের সময়, শীতকালে ধুলোবালি, ফুলের রেণু থেকে অ্যালার্জিজনিত কারণে এমন কাশি হয়। এমনকী বাড়ির পোষ্য থেকেও অ্যালার্জি থাকে অনেকের। আবার যাঁরা নিয়মিত ধূমপান করেন, তাঁদেরও কাশি হয়। একে বলে স্মোকার্স কাফ।
স্মোকার্স কাফ—
ধূমপায়ীরা সারাবছরই মাঝেমধ্যে খুকখুক করে কাশেন। ধূমপায়ীরা তাঁদের কাশির ব্যাপারে সজাগ থাকেন না বলেই ব্যাপারটা বেশি চিন্তার। কারণ অনেকেই কাশির সঙ্গে যুক্ত নানা বড় রোগের ঈঙ্গিতবাহী লক্ষণগুলি এড়িয়ে যান। তাই খেয়াল রাখুন, ধূমপায়ীর কাশির আওয়াজে কোনও পরিবর্তন হয়েছে কিনা। এছাড়া কাশির সঙ্গে রক্ত পড়লে, হলুদ কফ বেরলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
 গ্যাস্ট্রোএসোফেজিয়াল রিফ্ল্যাক্স
শোওয়ার সময় কাশি হয় অনেকের। পেটের অ্যাসিড খাদ্যনালী দিয়ে গলায় চলে আসে। ফলে শুকনো কাশির মতো সমস্যা তৈরি হয়।
 চিকিৎসা
কাশি হয় আপার রেসপিয়েটরি ট্র্যাক্ট-এ (নাক এবং গলা) ভাইরাস সংক্রমণের কারণে। এই ধরনের সমস্যার লক্ষণ হল জ্বর, গলাব্যথা, সঙ্গে কাশি। এক্ষেত্রে কাশির ধরন শুকনো হতে পারে বা কাশির সঙ্গে পাতলা সাদা কফ বেরতে পারে।
চিকিৎসা হয় উপসর্গের উপর ভিত্তি করে। এক্ষেত্রে কোনও অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সাধারণ অ্যান্টি অ্যালার্জিক ওষুধেই কাজ হয়।

 বুকে কফ বসে যাওয়া
কিছু মানুষ চিকিৎসকের কাছে এসে বলেন বুকে কফ বসে গিয়েছে। কাশলে বুকে ব্যথা হচ্ছে। শ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছে। এক্ষেত্রে চিকিৎসক রোগীর চেস্ট একজামিন করে দেখেন। বহু ক্ষেত্রেই দেখা যায় রোগীর অ্যাজমা, নিউমোনিয়ার মতো সমস্যা হয়েছে। এই কারণেই রোগীর বুকে কষ্ট হচ্ছে। চাপ চাপ বোধ হচ্ছে। এছাড়া, সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও একটা ধারণা রয়েছে অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টি অ্যালার্জিক খেলে বুকে কফ বসে যায়। বস্তুতঃ, কফ বসে যাওয়ার ব্যাপারটা নিয়ে কিছু রোগী বলেন— কাশির সঙ্গে কফ বেরচ্ছিল, অথচ ওষুধ খেতে শুরু করার পরেই কফ শুকিয়ে গেল। শুকনো কাশি শুরু হল। অথচ চিকিৎসক চেস্ট একজামিন করার করার পর দেখা গেল বুকে কফই নেই। এমন ক্ষেত্রে চিন্তা করার কিছু নেই। একটু নিয়ম মেনে সাবধানে চললে এই ধরনের সমস্যা থেকে দিন কয়েক পরেই মুক্তি মেলে।

 কফজ কাসরোগের চিকিৎসা: রোগীকে কচি মুলার রস কিংবা গোলমরিচ সংযুক্ত মাংস রস লঘুপাক (অল্পমশলা, অল্পতেল) আহার করতে হবে। পঞ্চকোল ও দুগ্ধ পাক করে সেবন করলেও এই কাস বিনষ্ট হয়। পুস্করমূল, কঠফল, বামুনহাটি, শুট ও পিপুল ক্বাথ কফজ কাসরোগে খুব লাভকারী।
 ক্ষতজ কাসরোগের কারণ ও লক্ষণ: অধিক ভারবহন, অধিক ভ্রমণ, অধিক পরিশ্রম, উচ্চ ভাষণ এই রোগের মূল কারণ। শুকনো কাশি, রক্তমিশ্রিত কফ , বুকে ব্যথ্যা, জ্বর, পিপাসা ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা এই রোগের বিশেষ লক্ষণ। এছাড়া ও শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে কষ্ট এবং কাশির সঙ্গে বুকের ভিতর ঘুড় ঘুড় শব্দ হয়।
 ক্ষতজকাসরোগের চিকিৎসা: ইক্ষু, পদ্মামৃণাল, পদ্ম, কর্কট শৃঙ্গী, শ্বেতচন্দন, পিপুল, দ্রাক্ষা লাক্ষা, শতমূল—এই প্রত্যেকটির একভাগ, বংশলোচন দুইভাগ, মিসরি সমস্ত দ্রব্যের চারভাগের সঙ্গে মাত্রানুযায়ী মধু ও ঘি সহকারে চেটে খেলে এই কাসে উপকার মেলে।
 ক্ষয়জকাসরোগের কারণ ও লক্ষণ: অনিয়মিত ভোজন, যথাযত নিয়ম না মেনে ভোজ, মল ও মূত্রবেগ ধারন প্রভৃতি এই রোগের কারণ। দুর্গন্ধযুক্ত রক্তবর্ণ কফ, রোগী কখনও শীত ও কখনও গরম অনুভব করে, দুর্বলতা এই রোগের প্রধান লক্ষণ।
 ক্ষয়জকাসরোগের চিকিৎসা: অর্জুন ছালের চূর্ণ তিন থেকে ছয় গ্রাম, বাসক পাতার রস, মধু , ঘি ও মিসরি সহযোগে চেটে চেটে খেলে খুবই কার্যকরী। কন্টিকারী ও পিপুল মধুসহ সকল কাশিতে অব্যার্থ ঔষধ। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মকরধ্বজ ১২৫ মিলিগ্রাম, যষ্টিমধু চূর্ণ ২ গ্রাম, বাসক ছালের রস বা কন্টিকারীর রস ১০ মিলি, পিপুল ও বচ চূর্ণের সঙ্গে সেবন করলে কাসরোগ নিবারণ হয়।
মনে রাখবেন—কাস কুঠার রস, মহালক্ষীবিলাস রস, শ্বাস কাস চিন্তামণি রসের মধ্যে যেকোনও একটির ১ টি করে বড়ি আদার রস বা পানপাতার রস দিয়ে দিনে দুই থেকে তিনবার প্রয়োগ করলে কাস রোগের উপশম হয়। চ্যাবনপ্রাশ, দশমুল, কন্টিকারী, চিত্রক হরিতকি চেটে খেলে বিশেষ ফলপ্রদ। যথাযত দিনচর্যা, নিয়মিত আহার বিহার কাস রোগের মুক্তির চাবিকাঠি।

আরোও পড়ুন :