নীলছবি দেখা লজ্জার নয়, তবে এই ৯ টি তথ্য জেনে রাখা উচিত

480
- Advertisement -
ছবি : প্রতীকী

পর্ন দেখার ফলে মনের মধ্যে অনেক রকমের যৌনতা বিষয়ক ধারণা জন্মায়, কল্পনাতেও অনেক কিছুই আসে। অনেক সময় নিজের ভালোবাসার মানুষটি অথবা সেক্স পার্টনার ও সেই কল্পনার অংশ হয়ে যায়। আর বাস্তবের অভিজ্ঞতা যখন সেই কল্পনার সঙ্গে মিল খায় না, তখনই নিজের সেই ভালোবাসার মানুষটির উপর অন্যরকম মনোভাব জন্ম নেয়। নিজের ভালোবাসার মানুষটির প্রতি আর আকর্ষণ জন্মায় না।

- Advertisement -

পর্নের প্রতি যদি আসক্তি চলে আসে তাহলে নিজের যৌনজীবন ও সেই পর্নোগ্রাফি ছবির মতোই কল্পনা করতে শুরু করি আমরা। পর্নস্টারের দেখাদেখি আমাদের নিজের সঙ্গীটিও সেরকমই করবে বলে আমরা সবসময় মনে করতে থাকি। আর যদি সেটা না হয় তাহলে নিজের ভালোবাসার মানুষটির প্রতি না মনে সন্দেহ জাগে।

পর্নোগ্রাফির প্রতি এই আসক্তি লুকনো খুবই মুশকিল। আমাদের এই ধরনের আসক্তি লুকোতে হলে অনেক সময় মিথ্যে কথা বলতে হয়। কিন্তু সেই মিথ্যা বেশিদিন স্থায়ী হয় না, সত্যিটা সবার সামনে চলেই আসে একসময়। ফলে, যদি কখনো মনে হয় যে আপনি পর্নোগ্রাফির প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছেন তাহলে সেই বিষয়ে নিজের বিশ্বাসযোগ্য কোনো কোনও বন্ধুকে তা শেয়ার করতে পারেন। এমনকি দরকার পড়লে আবার মনোবিদ বা চিকিৎসকেরও সাহায্য নিতে পারেন।

এই আসক্তির ফলে আমাদের যৌনজীবনেও নানারকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। ছেলেদের ক্ষেত্রে ‘ইরেক্টাইল ডিসফাংশন’-এর মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। টিনএজাররা যদি পর্ন-আসক্ত হয়ে পড়এ তাহলে তাঁদের ভবিষ্যতেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এই পর্ন-আসক্তি খুব খারাপ, এই আসক্তির ফলে মাথার মধ্যে সবসময় এই পর্নোগ্রাফির চিন্তাভাবনাই চলতে থাকে। অন্য কোনও কাজের মধ্যেও পর্নোগ্রাফি দেখার ইচ্ছে হয়।

পর্নোগ্রাফির নেশা হয়ে গেলে তার ফলে নিজের প্রতি অসম্ভব ঘৃণা জন্ম নেয়, আর সেই কারনেই এই নেশা কাটানো বা এই বিষয় নিয়ে অন্য কারও সাথে কথা বলতেও মনের মধ্যে একটা সংকোচ বোধ তৈরী হয়। এরকম অবস্থায় যাঁরা পর্ন-আসক্ত তাঁদের বেঁচে থাকাটা অনেকটা কঠিন হয়ে পড়ে।

পর্নোগ্রাফির এই নেশা যদি দীর্ঘদিনের হয় তাহলে এর ফলে স্নায়ু, মস্তিষ্কের উপর চাপ পড়ে। এমনকী ,উগ্র কোনো ছবি ও ভিডিও দেখে শান্তি পাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। যার থেকে কিন্তু অনেক সময় যৌন বিকৃতিও জন্ম নিতে পারে।

এই ধরনের নেশা থাকার ফলে নিজের পরিবার, এমনকি বন্ধুবান্ধবকেও সময় দেওয়া কমে যায়। সবার সাথে অনেকটা দূরত্ব তৈরী হয়ে যায়। নিজেকে বারবার দোষী মনে হয়। তখন মনে হয় এই একাকীত্ব কাটানোর সবচেয়ে ভালো ওষুধ হলো পর্নোগ্রাফি।

পর্নের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়লে তার পিছনে যেমন খরচ বাড়ে, ঠিক সেরকমই এই আসক্তির অনেকটা প্রভাব দেখা যায় নিজের কর্মক্ষেত্রে ও।

মানসিক ক্ষতি তো হয়ই, এর সাথে সাথে পর্নোগ্রাফি দেখার ফলে অনেক শারীরিক ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। ভয়, দুশ্চিন্তা, অবসাদ, রাগ, একাকীত্বের মতো সমস্যা এগুলো তো জীবনেরই অঙ্গ, এগুলো তো থাকবেই। একটানা পর্ন দেখার ফলে পিঠের ব্যথা, চোখের সমস্যা, খাওয়া-ঘুমের অনিয়মের মতো সমস্যাও দেখা যায়।

আরোও পড়ুন :