কেমন হলো গুমনামি ? টিকিট কেটে সিনেমাটি দেখার আগে জেনে নিন এই তথ্যটি

453
আরোও পড়ুন :
Image Source : Google

একটা কাজ তখনই ভালো হয় যখন যে তৈরি করছে সে সেই কাজটা নিয়ে সৎ থাকে। সে যখন নিজে থেকে কিছু ঠিক করে দেয়নাশুধু নিজের বিশ্বাসটুকুকে সামনে রাখে বাকিটা যারা দেখবে তাদের ব্যাপার। সৃজিত মুখার্জি ‘গুমনামি’তে একদম সেই কাজটিই করেছেন। তিনি সত্যি ছবিতে কোনো কনক্লুশনে যাননি তিনি কেবলমাত্র একটি সম্ভাবনা বা প্রশ্ন রেখেছেন সকলের সামনে। সেদিক থেকে বলা যায় নিঃসন্দেহে এটি সৃজিত মুখার্জির অন্যতম সেরা কাজ।

আরোও পড়ুন :

ছবিটি নিয়ে কথা বলতে গেলে প্রথমে যেটি বলতেই হবে, সেটি হল প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয় এবং তাঁর মেকআপ। হাইট নিয়ে একটু সমস্যা লাগলেও কিছু জায়গায় হয়তো পায়ের তলায় কিছু দিয়ে সেটা ম্যানেজ করার চেষ্টা করা হয়েছে তবে মনে হয়না দর্শককে সেটা খুব বেশি ভাবাবে। কারণ, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় নিজের সেরা টুকু দিয়ে অভিনয় করেছেন। অনির্বাণ ও নিজের কাজে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। পর্দার মধ্যে যেন দুইজন অভিনেতার মুষ্টিযুদ্ধ চলছে। অনির্বাণ বরাবরই ভালো অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করে নিয়েছে খুব কম সময়ের মধ্যে এই ছবিতেও তিনি যথেষ্ট সাবলীল ভাবে অভিনয় করেছেন। তনুশ্রীর অভিনয়ও ভালো। যেটুকু সময় তিনি স্ক্রিনে পেয়েছেন সেটুকু সময় নিজের সেরা কাজটি দিয়েছেন। বাকিরা যারা রয়েছেন তারা সাপোর্টিং ক্যারেক্টার তাদের নিয়ে খুব বেশি কিছু বলার নেই।

Loading...

এবার একটু চলে যাই গল্পের দিকে। দেখুন ছবির গল্প নিয়ে খুব বেশি কিছু বলে দিয়ে আপনার মজা মাটি করবোনা তবে, আমরা সকলেই নিশ্চই জানি, নেতাজির জীবিতকালে তাঁর বীরত্বের কাহীনি এবং তাঁর সংগ্রামী কার্যকলাপের বিস্তারিত বিবরণ পাতার পর পাতা থাকলেও এমন মহান একজন নেতার মৃত্যু সম্বন্ধে খুব বেশি উল্লেখ কোথাও থাকেনা। সবাই দায়সারা ভাবে একটা কথা বলে, ‘ধরে নেওয়া হয় একটি বিমান দুর্ঘটনায় তিনি মারা গেছেন’। কিন্তু অনেকের মতে না তিনি মারা যাননি তিনি রাশিয়া চলে গেছিলেন এবং পরে ‘গুমনামি বাবা’র ছদ্মবেশে উত্তরপ্রদেশে দীর্ঘদিন ছিলেন। নেতাজি যে ছদ্মবেশ ধারনে সিদ্ধহস্ত ছিলেন তা আমরা কমবেশি সকলেই জানি। ছবির প্রথমদিকে চন্দ্রচুড় ধর বা অনির্বাণ প্রথম দিকে মনে করতেন নেতাজিকে নিয়ে প্রয়োজনের থেকে বড্ড বেশিই আলোচনা করা হয় বা তিনি একটু ওভাররেটেড। এরপর কীভাবে তিনিও ধীরে ধীরে মন থেকে নেতাজিকে ভালোবেসে ফেলেন এবং নিজের জীবনের মধ্যে নেতাজিকে ধারণ করে ফেলেন তার চরিত্র ধীরে ধীরে বদলে যায় এবং গবেষণা করতে করতে চন্দ্রচুড় ও যেন নেতাজি হয়ে যায় মনে প্রাণে এই সমগ্র জার্নিটা খুব সুন্দর ভাবে দেখানো হয়েছে। এছাড়াও ছবির ক্লাইম্যাক্স দৃশ্যটি দর্শকের গায়ে কাঁটা দিয়ে দেওয়ার মতো। সেটি কী জানতে হলে আপনাকে অবশ্যই হলে গিয়ে ছবিটি দেখতে হবে।

- Advertisement -

এবার যদি ছবি নিয়ে কথা বলতে যাই তবে প্রথমে বলবো ছবির এডিটিং নিয়ে। সৃজিত মুখার্জি নিজের সিগনেচার স্টাইলে শুধুমাত্র এডিটের মাধ্যমে দারুনভাবে গল্পকে বর্তমান সময় থেকে অতীতে নিয়ে গেছেন এবং পুনরায় বর্তমানে ফিরিয়ে এনেছেন। ক্যামেরার কাজ মোটামুটি। আরো ভালো হতে পারতো এই ছবির সিনেমাটোগ্রাফি। সৌমিক হালদারের এর থেকেও ভালো কাজ আমরা আগে দেখেছি। গান এবং ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এই ছবিতে অন্যতম একটি প্রধান ভূমিকা নিয়েছে। প্রতিটি গান দর্শকের মনে এক অদ্ভুত ভালো লাগা, সাহস এবং গর্ব অনুভব করাতে সক্ষম। গায়ে কাঁটা দেবে এই ছবির প্রতিটি গান শুনে। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকও ভীষণ ভাবে নাড়া দেবে মানুষকে। ছবির যে বিষয় তার সঙ্গে ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, গান, এডিট এবং অভিনয় একদম মিলে মিশে গেছে। ‘গুমনামি’র চিত্রনাট্য এবং সমস্ত গল্পটি যেভাবে সাজানো হয়েছে সেদিক থেকে সৃজিত মুখার্জি যথেষ্ট সাবলীল ভাবে এই ছবির গল্প সাজিয়েছেন। অনেকদিন পর সৃজিত মুখার্জির অন্যতম সেরা কাজ দেখবেন দর্শকরা। সবথেকে বড় কথা এই ছবিটি আপনাকে এক মুহূর্তের জন্যেও অন্যদিকে মনকে যেতে দেবেনা। সারাক্ষন দর্শককে দমবন্ধ করে সিটে বসিয়ে রাখতে সক্ষম সৃজিত মুখার্জির ‘গুমনামি’ যেটি একটি ছবির সবথেকে বড় পাওনা। প্রতিটি মুহূর্তের প্রতিটি ফ্রেম মানুষ পুরো আগ্রহের সাথে দেখবে এই ছবিতে।

শ্যুটিংএর প্রথম থেকেই এই ছবি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। নেতাজি পরিবারের সদস্যের তরফ থেকে বারবার আপত্তি এসেছে সৃজিত মুখার্জি ছবির তথ্য বিকৃত করেছেন। কিন্তু কিছু সদস্যকে তিনি পাশেও পেয়েছেন সাথে মানুষও বিশ্বাস রেখেছেন তার ওপর। সেদিক থেকে মানুষের ভালোবাসা এবং বিশ্বাসের দাম দিতে সক্ষম হয়েছেন সৃজিত। তবে কথায় বলে ‘শেষ ভালো যার, সব ভালো তার’। এই ছবির ক্ষেত্রেও সেই কথা বলাই যায়। প্রথম থেকেই অনেক বাঁধা, বিপত্তি এবং বিতর্ক পেরিয়ে এসে অবশেষে ‘গুমনামি’ দর্শকদের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। বাংলা ছবি ঠিকঠাক হল পেলে যে অনেক ভালো ছবিকে টক্কর দিতে সক্ষম তা আরো একবার প্রমাণ করে দিলেন সৃজিত মুখার্জি এবং তার গোটা টিম। সুতরাং পুজোর মার্কেটে একবার ঢুঁ মেরে আসতেই পারেন হলে। এই ছবির যে ম্যাজিক সেটা বড় পর্দা ছাড়া আর কোথাও অনুভব করতে পারবেন না। সুতরাং বন্ধুবান্ধব বা পরিবারের সাথে যদি পুজোর আমেজে হলমুখী হন তাহলে ‘গুমনামি’ আপনার জন্য অপেক্ষা করছে তার সমস্ত বৈশিষ্ট্য নিয়ে।

আরোও পড়ুন :