বাংলা সিনেমার নতুন মাইলফলক ‘দিন রাত্রির গল্প’

101
- Advertisement -

Image Source : Google

দিন রাত্রির গল্প সিনেমাটি দেখলাম। ভাল লাগল। একদম অন্যরকমের সিনেমা। আমি নিয়মিত বাংলা সিনেমা দেখি কিন্তু এমন সিনেমা আমি আগে দেখি নি। এমন সিনেমা দেখি নি মানেই যে সিনেমাটা ভাল টা তো নয়। ধরুন কেও হনুমান নিয়ে সিনেমা বানাল বাংলাতে তা বলে যে সেটা দারুণ লাগবে তেমন তো বলা যায় না।

- Advertisement -

দিন রাত্রির গল্পের প্রথম ভাগে নাসা, মহাকাশযান, মহাকাশযান থেকে সূর্য উদয়ের দৃশ্য এমন অনেক কিছু দেখান হয়েছে যা আগে বাংলা সিনেমায় দেখান হয় নি। কিন্তু প্রথম ভাগ শেষ হবার পর মন যখন আনন্দ আর বিষণ্ণতায় একসাথে ভরে যায় তখন বুঝতে পারি সিনেমাটি সার্থক। টান টান প্লট, একের পর এক চমক অথচ এক তীব্র মানবিক গল্প। প্রত্যেক বাবা মায়ের উচিত এই সিনেমাটি তাদের সন্তানদের দেখানো। বাবা মায়ের জন্য একজন সন্তান কি আত্মত্যাগ করতে পারে ভাবা যায় না। বিশ্বাস করুন কেঁদে ফেলেছিলাম। সাবাস যিনি স্ক্রিপ্ট লিখেছেন… এক ঘণ্টার মধ্যে বিরতির আগেই সবার মন ভাললাগায় ভরিয়ে দিলেন।

এবার আসি সিনেমার দ্বিতীয় ভাগে, রাতের গল্পে। এইখানে দুজন মানুষকে প্রণাম জানাচ্ছি মন থেকে, একদম মন থেকে। প্রথমজন রজতাভ দত্ত আর দ্বিতীয় জন সিনেমার ডিরেক্টর। অবিশ্বাস্য, না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন এইভাবে সিনেমা বানান যায়। রজতাভ তাঁর জীবনের এখন পর্যন্ত শ্রেষ্ঠ অভিনয় করলেন। যে কেও এই কথা বলবেন। তিনি যে হলিউডে জন্মালে বেশ কয়েকটি অস্কার চোখ বন্ধ করে বাগিয়ে নিতে পারতেন এই সিনেমা দেখার পর আর কোন সন্দেহ থাকল না। বাংলা সিনেমা রজতাভকে ১ শতাংশ ব্যবহার করতে পারে নি। আর এই ডিরেক্টর সাহেব নিংড়ে নিয়েছেন রজতাভের থেকে। দ্বিতীয় ভাগ দেখলে আপনি বিশ্বাসই করবেন না এটা বাংলা সিনেমা মনে হবে কোন পুরুষকার প্রাপ্ত বিদেশী সিনেমা দেখছেন। প্রতিটি দৃশ্য অসাধারণ। অবিশ্বাস্য চমক। শব্দ আর মিউসিকের ব্যবহার দারুণ। এককথায় ফাটাফাটি।

এখন লেখার সময় বুঝতে পারছি কেন এই দুটো সম্পূর্ণ আলাদা গল্পকে একসাথে বোনা হল। এক অদ্ভুত আবেগ কাজ করছে মাথার মধ্যে। মৃত্যু ঈশ্বর ভালবাসা কত সহজে মিশে যাচ্ছে একে অন্যের সাথে। ভাল লাগছে; এই সময়, আমি, আমার ল্যাপটপ আর চারপাশের অন্ধকার… সবকিছু ভাল লাগছে। দিন রাত্রির গল্প থেকে ভাললাগার শিশির জমছে আমার এই ছোট্ট ঘরে।

আরোও পড়ুন :