বাঁকুড়া জেলায় খুন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান, এলাকায় তিব্র চাঞ্চল্য

12540
- Advertisement -


জেলাজুড়ে শাসকদলের গোষ্ঠী কোন্দল বহু বারই প্রকাশ্যে এসছে। এবার তৃনমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে খুন হতে হল উলিয়াড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধানকে। ঘটনায় এলাকায় তিব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাটি ঘটে বিষ্ণুপুরের বেলিয়াড়ার এলাকায়। জানা যায় মৃত সেখ বাবর আলি ২০১৩ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত উলিয়াড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। শনিবার রাত্রি ১০ টা নাগাদ বোমাবাজি ও খুনের ঘটনার পর এলাকা দুই দলের উত্তেজনায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

- Advertisement -

স্থানীয় তৃণমূল সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট এলাকায় তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল দীর্ঘ দিন ধরেই রয়েছে। উলিয়াড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন ও বর্তমান প্রধান দু’জনেরই বাড়ি একই গ্রামে অর্থাৎ বেলিয়াড়ায়। এই দু’পক্ষের বেশ কিছু সমর্থক সহ আলাদা আলাদা গোষ্ঠী রয়েছে। দুজনেরই এলাকায় প্রভাব থাকলেও এলাকার কার প্রভাব কতটা তার প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই নিজেদের মধ্যে ঠাণ্ডা লড়াই চলছিল।

শনিবার রাত্রি ৯ টা নাগাদ এক দল দুস্কৃতী প্রথমে চড়াও হয় এবং গ্রামের তৃণমূল কার্যালয়ে ঢুকে সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। ভাংচুর চালানোর পূর্বে প্রাক্তন প্রধান সেখ বাবর আলির বাড়িতে তার বিরুদ্ধে গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত রহিম মণ্ডলের লোকজন হামলা চালায় বলে অভিযোগ। তিনি অবস্থা বেগতিক দেখে হামলা থেকে বাঁচতে বাবর আলির বাড়ির পাশেই এক জনৈক হাজি সাহেবের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। কিন্তু নিজেকে বাঁচাতে পারেননি বাবর আলি। সেখানেও দুষ্কৃতীরা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে অভিযোগ তারপর ধারালো ছুরি দিয়ে কুপিয়ে খুনের পাশাপাশি বাড়িতে থাকা গাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়। আতঙ্ক বজায় রাখতে এলাকায় ব্যাপক বোমাবাজিও করা হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে হাজির হয় পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। পাশাপাশি পুলিশ প্রাক্তন প্রধান সেখ বাবর আলির মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালে পাঠায়। এলাকায় জটলা ও উত্তেজনা থাকায় ফলে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। ঘটনার সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে পুলিশ পাঁচ জনকে আটক করে পুলিশ।

ঘটনা ঘটার পর প্রথমদিকে জেলা তৃনমূল কিছু বলতে চাননি। পরে অবশ্য তৃণমূলের বাঁকুড়া জেলা সভাপতি ও রাজ্যের মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা মৃত্যুর ঘটনা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি এখনও সম্পূর্ণ তিনি জানতে পারেননি তবে খোঁজ খবর নিচ্ছি। পুলিশ তার নিজের কাজ করছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান।

অন্যদিকে বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা অবজার্ভার পার্থ কুণ্ডু এবিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় জানান, প্রথমেই এরকম নির্মম ভাবে হত্যাকান্ডে তিব্র নিন্দা জানাই। তৃণমূলের পায়ের তলায় মাটি শেষ হয়ে এসছে। ক্ষমতার লোভে তৃনমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ প্রবল। নিজেরাই নিজেদের সাথে লডাই করছে। এতে সর্বত্র সন্ত্রাসের যে পরিবেশ তৈরী হচ্ছে। সাধারন মানুষকে আতঙ্কিত করা হচ্ছে। এই অশান্তির পরিবেষে এ রাজ্য সাধারণ মানুষের বসবাসের অনুপযোগীহয়ে উঠেছে। এইদলের উপর কারো কোনো শাসন নেই। অভিভাবকহীন দল তৃনমূল।

আরোও পড়ুন :