রাজবাড়ি থেকে গুলির আওয়াজ, আত্মঘাতী হলেন বাঁকুড়ায় মল্লরাজ বংশের সদস্য

880
- Advertisement -


অনিরুদ্ধ সরকার,বাঁকুড়াঃ গুলিতে আত্মঘাতী হয়ে মৃত্যু হল বিষ্ণুপুর মল্লরাজ বংশের অন্যতম বর্ষীয়ান সদস্যের। এদিন মল্লরাজ পরিবারের ওই সদস্যের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ালো বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে। মৃতের নাম সলিল সিংহ ঠাকুর। শনিবার সকালে নিজের বাসভবনে বসার ঘর থেকে রক্তাক্ত মৃতদেহ পুলিশ উদ্ধার করে। একই সঙ্গে পাশে পড়ে থাকা একটি একনলা বন্দুকও বাজেয়াপ্ত করেছে বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ।

- Advertisement -

এদিন তিনি নিজের বসার ঘরে একনলা বন্ধুক দিয়ে গুলি গলায় চালালে সেই গুলি মাথা ভেদ করে বেরিয়ে যায়। অনুমান ঘটনাস্থেই মৃত্যু হয় সলিলবাবুর। গুলির আওয়াজে ছুটে আসেন বাড়ীর পরিচারিকা। বসার ঘরে ঢুকে দেখে মেঝেতে লুটিয়ে আছে রক্তমাখা দেহ। সারা মেঝে জুড়ে গড়িয়ে যাচ্ছে সেই রক্ত। সাথে সাথে চিৎকার করে পরিবারের অন্য সদস্যদের খবর দেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায় এদিন সকালে রাজবাড়ি থেকে গুলির চালানোর আওয়াজ ভেসে আসে। প্রথম দিকে বিষয়টিকে কেউ সেভাবে গুরুত্ব দেননি। পরে রাজপরিবারের অন্যতম সদস্য সলিল সিংহঠাকুরের ‘আত্মহত্যা’র খবর শুনে অনেকেই ভিড় করেন। খবর দেওয়া হয় বিষ্ণুপুর থানায়। প্রতিবেশী মালতি মল্ল বলেন, অন্যান্য দিনের মতো এদিন সকালে মন্দিরে ফুল দেওয়ার সময় হঠাৎই গুলির আওয়াজ পাই। বাজির আওয়াজ ভেবে বিষয়টিকে প্রথম দিকে তেমন গুরুত্ব দিইনি। পরে পুরো বিষয়টি শুনলাম।

সলিল সিংহ ঠাকুরের বন্ধু কনকজ্যোতি দাস বলেন, বিষয় টি মন থেকে মেনে নিতে পারছিনা। শুক্রবার আমার সঙ্গে মন্দিরে দেখা হয়েছিল। হাঁটুর ব্যাথা সংক্রান্ত শারিরীক অসুস্থতায় অনেক দিন ধরে মানসিক অবসাদে তিনি ভুগছিলেন। সেকারনেও সলিল আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে তিনি জানান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি একটি একনলা ওই বন্দুকটি বাজেয়াপ্ত করে। পাশাপাশি মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে। তবে পুলিশ জানিয়েছে লাইসেন্স প্রাপ্ত পারিবারিক বন্দুক থেকেই গুলি চালিয়ে আত্মঘাতী হন এই সত্তোর উর্ধ্ব রাজ পরিবারের সদস্য।

এদিকে, রাজ পরিবারের শেষ বংশধরের আত্মঘাতীর এই ঘটনার জেরে মল্লভূম বিষ্ণুপুর জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঠিক কি কারণে তিনি আত্মঘাতী হলেন, তার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্তে নেমেছে বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ।

আরোও পড়ুন :