জোঁক থেরাপি কিভাবে হয় জানেন ? পড়ুন বিশদে, শিউরে উঠবেন

58
আরোও পড়ুন :
ছবি : প্রতীকী

জোঁক দেখলেই অনেকেরই গা ঘিনঘিন করে ওঠে। খুব স্বাভাবিক। ওরকম একটা বিষাক্ত এবং পিচ্ছিল জীব দেখলে এরকম একটা অভিব্যক্তিই আসে মনে। কিন্তু রূপ দেখে গুন বিচার করা যায়না। জোঁক নামক জীবটির ক্ষেত্রে এই কথাটি খেটে যায় একদম অক্ষরে অক্ষরে। কিন্তু কেন বলছি এসব কথা? কেনই বা আজ এরকম একটা বিকট জীবকে নিয়ে কথা বলছি? উত্তর মিলবে এই পোস্টেই।

আরোও পড়ুন :

২০০৪ সাল থেকেই বিভিন্ন গবেষণা এবং পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, মানুষের শরীরের অনেক মারাত্মক রোগ দূর করতে জোঁকের ভূমিকা অপরিসীম। জোঁক সত্যিই আমাদের অনেক উপকারে আসতে পারে। জোঁক দিয়ে সম্ভব নানারকম থেরাপিও। সবথেকে আশ্চর্যজনক তথ্য হলো ক্যানসারের প্রতিকারে রয়েছে জোঁকের ভূমিকা। কোন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর শরীরে যদি জোঁকের স্যালাইভা প্রবেশ করানো যায়, তাহলে স্তন, মেলানোমা, ফুসফুস এবং প্রস্টেট ক্যানসারের প্রকোপ অনেকাংশেই কমানো সম্ভব। এছাড়াও ২০১১ সালের একটি গবেষণায় দেখা যায়, ঠিক পদ্ধতিতে জোঁককে ব্যবহার করলে সারা শরীরে রক্তের সঞ্চালন বেড়ে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়তে থাকে।

Loading...

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী ২০ বছরের মধ্যে সারা বিশ্বে প্রায় ৩৬ কোটি মানুষ ডায়াবেটিসে ভুগবে। বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি ডায়াবেটিসের কারণে হওয়া নানাবিধ জটিলতা কমাতে জোঁক থেরাপি দারুণ কার্যকর। জোঁকের শরীরে থাকা ডেস্টাবিলেস নামক এক ধরনের প্রোটিন আমাদের শরীরে প্রবেশ করার পর সব ধরনের জীবাণুকে মেরে ফেলে রোগের প্রকোপ কমাতে সাহায্য করে। প্রসঙ্গত, ২০০৩ সালে হওয়া একটি গবেষণায় দেখা গেছে, জোঁকের শরীরে থাকা নিউরোসিগনালিং এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল পেপটাইড যে কোনো ধরনের সংক্রমণকে কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

- Advertisement -

জয়েন্টে ব্যথা হলে সেসব জায়গায় কিছু সময় জোঁককে রাখলে সেখানে রক্ত সরবরাহ প্রক্রিয়ার উন্নতি ঘটে। ফলে অস্টিওপোরোসিসের মতো রোগীরা অনেক উপকৃত হন। বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, কানের ক্রণিক যন্ত্রণা কমাতে জোঁকের কোনো বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে একটা জোঁক কানের পিছনে, আর একটি কানের সামনে কিছু সময় রেখে দিতে হবে। এমনভাবে ৩-৪ দিন করলেই যন্ত্রণা একেবারে কমে যাবে।

আরোও পড়ুন :